শৈশবটা ছিল শালিকের ঝাঁকের মতো — হৈচৈ, ঝগড়া, কাদা, আর মায়ের বকা। পায়েল ছোটবেলায় আমার পিছু ছাড়ত না। আমি গাছে উঠলে সে কাঁদত, আমি নদীতে নামলে সে হাঁটু জলে দাঁড়িয়ে চেঁচাত। একবার ও আমগাছে উঠতে গিয়ে পড়ে গেল, কপাল ফাটল, রক্ত গড়িয়ে পড়ল। আমি ওকে কাঁধে নিয়ে দৌড়ে গিয়েছিলাম ডাক্তারখানায়। সেদিন থেকে ওর মনে ঢুকে গেল — "আমার দাদা সব পারে, দাদা আমাকে বাঁচাবে।"
তারপর এল সেই রাস্তা।
সেই বছর ফাল্গুন মাস। খুড়োর মেয়ের বিয়ে ঠিক হয়েছে হুগলির এক ঘরোয়া লোকের সাথে — না না, ভুল বললাম, বিয়ে ঠিক হয়েছিল পায়েলের এক খালাতো দাদার বাড়িতে, কলকাতার ধারে। দুই পরিবার একসাথে যাবে, ছোট-বড় মিলিয়ে আট জন। পায়েল গিয়েছিল, কিন্তু ওর পরীক্ষার জন্য ফিরে আসতে হয়েছিল আগেই। তাই ও বাদ পড়ল ভাগ্যক্রমে। বাকি সবাই উঠল যশোর-কলকাতা রুটের একটা বাসে, রাতের দিকে।
সেদিন আমি শহরে ছিলাম। ফটোকপির দোকানে কাজ করি, পাশাপাশি বিএ পড়ি। রাত এগারোটার দিকে ফোনটা এল — আমার দাদা, মানে বাবার বড় ভাইয়ের ছেলে, ফোনে কাঁপা গলায় বলল, "রাতুল, বাসটা পাল্টে গেছে। বেনাপোলের কাছে।"
বাসটা সত্যিই পাল্টে গিয়েছিল। ট্রাকের সাথে মুখোমুখি। আটজন গিয়েছিল, সাতজন ফিরল না। আমার বাবা, আমার মা, আমার খুড়ো, আমার খুড়ি — চারজন একসাথে চলে গেল, একই রাতে, একই রাস্তায়। বাকি তিনজন বেঁচে গেল কোনোমতে — তারা কেউ আমাদের পরম আত্মীয় নয়, তাই খবরটা দেওয়ার দায়িত্বও তাদেরই।
শেষ খবরটা পায়েলকে দিতে হয়েছিল আমারই।
গ্রামে ফিরে দেখলাম উঠোনে ভিড়। ট্রাক্টর দাঁড়ানো, কয়েকজন দূরের আত্মীয়, প্রতিবেশীরা সব। আমি ঢুকতেই সবাই চুপ করে গেল, তারপর একটা গোঙানি — আর ওই গোঙানির মাঝখানে দাঁড়িয়ে ছিল পায়েল।
সে তখনো আঠারো বছরের একটা মেয়ে। বড়সড় চোখ, সোজা নাক, চুল কোমর ছাড়িয়ে নিচ পর্যন্ত, আর গলায় মায়ের দেওয়া একটা সরু সোনার হার। ওই হারটাই ছিল ওর তখনকার সবচেয়ে বড় সম্পত্তি — কারণ বাকি সব শেষ।
আমি ওর সামনে গিয়ে দাঁড়ালাম। কী বলব বুঝতে পারছিলাম না। ও কিছুক্ষণ আমার মুখের দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর দু'হাতে আমার জামার বুকটা চেপে ধরল আর একেবারে শিশুর মতো কেঁদে ফেলল।
"দাদা, সব?" — এইটুকুই বলল।
আমি মাথা নাড়লাম। বললাম, "সব।"
তারপর তিন দিনের শোক, শ্মশানের ধোঁয়া, আত্মীয়দের কান্না, পাঁচমিশালি হিন্দু-মুসলিম প্রতিবেশীদের খাবার আর সান্ত্বনা। সবটা শেষ হলে বাকি রইল শুধু প্রশ্নটা — পায়েল যাবে কোথায়?
আত্মীয়রা বসে আলোচনা করল। কেউ বলল, "মেয়েটাকে পড়াশোনা বন্ধ করিয়ে বিয়ে দিয়ে দাও। বয়সও হয়েছে।" কেউ বলল, "পাশের জেলার মাসির কাছে রেখে দে।" কেউ বলল, "ভাড়া বাড়িতে একা থাকবে কী করে, মেয়ে মানুষ।"
আমি তখন উঠে দাঁড়িয়ে বললাম, "পায়েল আমার সাথে শহরে যাবে।"
সবাই তাকাল। এক খুড়ি বলল, "শহরের ওই ছোট্ট ঘরে? তুই কাজ করিস, পড়িস, আবার একটা আঠারো বছরের মেয়ে সাথে?"
"হ্যাঁ," বললাম। "ঘর ছোট, কিন্তু বোনের জন্য একটা কোণা বের করব।"
সেদিন রাতে উঠোনে বসে ছিলাম। পায়েল এসে পাশে বসল, কাঁথা গায়ে জড়িয়ে। অনেকক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর বলল, "দাদা, তুমি যদি আমার ভার না নিতে চাও, আমি কাউকে খুশি না করে চলে যাব।"
"চুপ কর," বললাম। "তুই আমার বোন। তুই যাবি আমার সাথেই।"
ও কিছুক্ষণ আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তারপর গলার হারটা খুলে দুই আঙুলে ধরে বলল, "মা দিয়েছিল। বলেছিল, এই হার যেন নষ্ট না হয়।"
"নষ্ট হবে না," বললাম।
ও হাসল, চোখে তখনো জল। "দাদা, তুমি খুব সরল। জানো?"
"কেন?"
"তুমি ভাবছ বোন মানে শুধু বোন।"
সেদিন আমি বুঝতে পারিনি কথাটার মানে। তিন মাস পর বুঝেছিলাম।
দুই — ছোট্ট ঘর, বড় বড় চোখ
শহরের ঘরটা ছিল দুই কামরার টিনের বাসা — একটা ঘর, সাথে একটা ছোট্ট রান্নাঘর আর পিছনে চার দেয়াল ঘেরা একটা গোসলখানা। একতলার একটা অংশ, মালিক থাকেন ওপরতলায়। দেওয়াল ভাগ করা, তাই পাশের ঘরের কথা শোনা যায়। ভাড়া তিন হাজার, তার সাথে পানি-বিদ্যুৎ। আমার বেতন সাত হাজার। হিসাবটা টাইট, কিন্তু চলে যায়।
প্রথম রাতে পায়েল বিছানা পেল, আমি পেলাম মেঝেতে পাতা একটা মোটা কার্পেট আর দুটো কম্বল। ও আপত্তি করল, আমি মানলাম না।
"তুই মেয়ে মানুষ," বললাম। "তুই বিছানায় শোবি।"
"আর তুমি?" — ও চোখ বড় করে তাকাল।
"আমি মাটিতে অভ্যস্ত।"
ও হাসল। "দাদা, তুমি ভুলে যাও আমি ছোটবেলায় তোমার সাথে একই খাটে ঘুমিয়েছি।"
"তখন তুই ছোট ছিলি। এখন বড় হয়েছিস।"
"বড় হইছি মানে কী?"
আমি উত্তর দিলাম না। কারণ উত্তরটা তখনো খুঁজে পাইনি।
শুরু হল নতুন জীবন। সকাল ছয়টায় উঠি, রান্না করে খাই, সাড়ে সাতটায় বেরিয়ে যাই দোকানে। পায়েল তখন বি-কমের ক্লাসে ভর্তি হয়েছে, দুপুরে ক্লাস, তারপর বাড়ি ফিরে পড়া। সন্ধ্যায় আমি ফিরি, খাই, পড়াই ওকে। রাতে দুজনে বসে টিভি — একটা পুরনো চৌদ্দ ইঞ্চি ব্ল্যাক-অ্যান্ড-হোয়াইট, যেটা ওপরে বাড়িওয়ালা ছুঁড়ে দিয়েছিলেন "পড়ার জন্য" বলে, অথচ ওটা দিয়ে শুধু খবর আর গানের অনুষ্ঠান আসত।
প্রথম দু'সপ্তাহ ও প্রায়ই কাঁদত। রাতে ভাত খেতে খেতে হঠাৎ থেমে যেত, তারপর চোখ ভরে আসত। আমি কী করতাম জানি না, শুধু পাশে বসে থাকতাম। একবার সাহস করে মাথায় হাত বুলিয়ে দিলাম। ও কেঁদে ফেলল আর আমার কাঁধে মাথা রেখে বলল, "দাদা, একটু এভাবে থাকো।"
সেদিন থেকে অভ্যাস হয়ে গেল।
তারপর ধীরে ধীরে শোকের জায়গায় ঢুকল হাসি। কারণ পায়েলের মধ্যে একটা জিনিস ছিল — সে কখনো হার মানত না। বাবার মৃত্যুর পরেও সে ঠিকই আবার হাসতে শিখল, আবার ঝগড়া করতে শিখল, আবার আমাকে জ্বালাতে শিখল। ওর গলার হারটা বুকের ওপর ঝুলে থাকত সবসময়, আর ঘরের কাজ করতে করতে সেটা দুলত। আমার চোখও দুলত। প্রথমে ভাবতাম এটা নিছক অভ্যাস। তারপর ভাবলাম, হয়তো একটু বেশি।
প্রথম চমকটা এল রান্নাঘরে।
এক সন্ধ্যায় আমি ফিরে দেখি ও কাঁচা মরিচ কুটছে, চোখ দিয়ে জল পড়ছে, আর গোটা ঘরে ধোঁয়া। উনুনের পাশে দাঁড়িয়ে মাথা চুলকাচ্ছে।
"কী বানাচ্ছিস?"
"ডাল।"
"ডালে এত ধোঁয়া কেন?"
"জানি না।"
আমি ঢাকনা খুলে দেখি — ডালের সাথে লবণ দিয়েছে সাত চামচ, হলুদ দিয়েছে গোটা আধা বাটি, আর চালের সাথে মিশিয়ে দিয়েছে রসুনের কোয়া, ভেঙে না দিয়ে। বাসনটা দেখে মনে হচ্ছিল কেউ ডাল আর ভাতের মধ্যে একটা বিবাহ সম্পন্ন করেছে, খুশিমন্ত্র পড়ে।
আমি কৌটা তুলে নিয়ে বললাম, "পায়েল, তুই রান্না করেছিস নাকি প্রসাদ বানিয়েছিস?"
ও হাতের কাঁটা ছুঁড়ে ফেলে বলল, "তুমি বানাও তাহলে!"
"বানাব, তুই শুধু পাশে দাঁড়া আর দেখ।"
সেদিন আমি রান্না করলাম, আর ও আমার হাতের কাজ দেখতে দেখতে বলল, "দাদা, তুমি আসলে সব পারো।"
"এটাও কি কোনো কৃতিত্ব?"
"অনেক," বলল, চোখ ছোট করে।
তারপর থেকে দিনগুলো এক একটা ছোট্ট নাটক। সকালে ও আমার শার্ট পরে ঘুমিয়ে থাকত, শার্টটা ওর হাঁটু পর্যন্ত ঢাকা পড়ত, আর আমি জাগলে জামার হাতা ঝুলিয়ে দুলিয়ে বলত, "দাদা, দেখো, তোমার জামা আমার হয়ে গেছে।"
আমি তাকাতাম। তারপর দেখতাম — ওর কোমরের নিচে জামাটা সরে গেছে, উরুর উপরিভাগের খানিকটা দেখা যাচ্ছে। আর গলার ওপর দিয়ে ওর চুলের কয়েকটা গোছা পড়ে আছে, ঠিক ওই গলার হারটার ওপর।
"দাদা," ও বলত, "চোখ নামাও, দরজা ওপরে।"
"বাজে কথা বলিস কেন।"
"কারণ তুমি তাকিয়ে আছ।"
হাসতাম, কিন্তু সত্যিটা ছিল ভেতরে — আমি তাকিয়ে থাকতাম। খুব তাকিয়ে থাকতাম।
তিন — ভেজা শাড়ি, শুকনো দাদা
আমাদের ঘরের গোসলখানা ছিল বাঁশ আর পলিথিনে মোড়া একটা ছোট্ট ঘর, পিছনে একটা বালতি আর একটা ট্যাপ। আমি সাধারণত সকালে গোসল করি। কিন্তু একদিন দোকান বন্ধ ছিল, তাই দুপুরে গোসলে নামলাম, আর ও আগে ঢুকে পড়ল।
দরজায় ছিল না কোনো খুঁটিনাটি লাগানো, শুধু একটা চাদর টাঙানো। আমি বাইরে দাঁড়িয়ে ছিলাম, ও ভেতরে। ট্যাপ খুলতেই ফোঁটায় ফোঁটায় শব্দ — আর সাথে ওর গলার গুনগুন, কিছু একটা গান, মনে হয় রেডিওতে শুনেছিল।
তারপর চাদরটা বাতাসে খানিকটা সরে গেল।
আর আমি জীবনে প্রথমবার ভালো করে দেখলাম পায়েলকে।
সে তখন পিছন ফিরে ছিল। ভেজা চুল কাঁধে ছড়ানো, পিঠের ওপর জল গড়িয়ে পড়ছে। কোমরের উপরে আর নিচে ভাগের জায়গায় দুটো ছোট্ট খাঁজ, যেন কেউ আঙুল দিয়ে দাগ কেটে দিয়েছে। ভেজা কাপড় গায়ে লেপ্টে গেছে, তাই ভেতরের রেখা বোঝা যাচ্ছিল — কোমর, কাঁধ, নিতম্বের বাঁক। আর জলটা ওর পিঠ বেয়ে নেমে যাচ্ছিল, খুব ধীরে, খুব নিরীহভাবে, অথচ আমার ভেতরে যেন একটা কিছু শুরু হয়ে গেল।
আমি চোখ সরাতে পারছিলাম না।
হঠাৎ ও পিছনে ঘুরল, চাদরের ফাঁক দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে হেসে বলল, "দাদা, তুমি ওখানে কতক্ষণ দাঁড়িয়ে আছ?"
"এই... এই তো।"
"মিথ্যা। তোমার পা দুটো দেখেই বোঝা যাচ্ছে, তুমি অনেকক্ষণ।"
"কী করে বুঝলি?"
"কারণ আমি গুনে ফেলেছি। তিনটা গান গেয়েছি, তুমি একবারও নড়ো নি।"
আমি লজ্জা পেলাম। পায়েল হাসল — সেই হাসি, যেটা শুধু জানে না বাকিরা।
তারপর সপ্তাহখানেক পর আরেকটা ঘটনা।
সেদিন বৃষ্টি হয়েছিল সকাল থেকে, একেবারে একটানা। রাস্তায় পানি, স্কুল বন্ধ, আমি দোকানে যাইনি। সন্ধ্যায় পায়েল রান্না করছিল, আর হঠাৎ বিদ্যুৎ চলে গেল। ঘর অন্ধকার, শুধু উনুনের আগুন আর জানালার বাইরের নীল আলো। আমি মোম জ্বালাতে গেলাম।
হঠাৎ পিছন থেকে ওর গলা, "দাদা।"
"কী?"
"মোমটা হাতে নিয়ে ঘুরে দাঁড়াও।"
আমি ঘুরলাম। ও মোমের আলোয় দাঁড়িয়ে ছিল — ভেজা শাড়ি, কাঁধে একটা পুরনো টি-শার্ট, চুল খোলা। মোমের আলো কখনো খুব সহজে কিছু লুকিয়ে রাখে না, আর সত্যি বলতে, সেদিন ওর চেহারাটা ওই আলোয় এমনভাবে ফুটে উঠল যে আমি প্রায় ভুলে গেলাম নিঃশ্বাস নিতে হয়।
"কী?" বললাম।
"কিছু না," বলল। "শুধু মনে হলো আজ তুমি একবার ভালো করে তাকাও।"
"তাকিয়েছি।"
"কতক্ষণ?"
"বেশ কিছুক্ষণ।"
ও হাসল। "বেশ।"
তারপর কেটে গেল দিন, কেটে গেল মাস। আর আমার ভেতরে জিনিসটা বাড়তে লাগল — ধীরে, নিঃশব্দে, একটা রোগের মতো। সকালে ঘুম ভাঙত ওর হাসিতে, রাতে ঘুম আসত না ওর শ্বাসের শব্দে। ঘরে দুটো বিছানা ছিল, অথচ মনে হত ঘরটায় আমি একা, আর ও সবসময় আমার পাশে, হাত বাড়ালেই।
চার — বৃষ্টির রাত
সেই রাতটার কথা আজও মনে আছে, কারণ সেদিনই সব বদলে গেল।
সেটা আষাঢ় মাস। সারাদিন গুমোট গরম, তারপর সন্ধ্যায় শুরু হল ঝড়বৃষ্টি। বাতাস এত জোরে যে টিনের চালটা কেঁপে উঠছিল, দরজার চাদর উড়ে যাচ্ছিল। বিদ্যুৎ গেছে আগেই। মোম জ্বেলে বসে ছিলাম, ও বিছানায় শুয়ে ছিল।
তারপর একটা বজ্রপাত, একেবারে মাথার ওপর। ঘর কেঁপে উঠল।
পায়েল চিৎকার করে উঠে সোজা উঠে বসল। "দাদা!"
"আছি, আছি।"
"একটু কাছে এসো না।"
আমি কার্পেট থেকে উঠে বিছানার পাশে গেলাম। ও আমার হাত চেপে ধরল। হাতটা ছিল ঠান্ডা, আর কাঁপছিল।
"ভয় পাচ্ছিস?"
"ছোটবেলায়ও পেতাম," বলল। "মা কোলে নিত।"
আমি কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইলাম। তারপর ও বিছানার একপাশ থেকে সরে গিয়ে বলল, "শুয়ে পড়ো।"
"এখানে?"
"হ্যাঁ। বজ্রপাত থামলে চলে যেও।"
আমি শুলাম। একই বিছানায়, দুজনে, দুটো কম্বলের নিচে, মাঝখানে তিন হাত ফাঁক।
প্রথম দশ মিনিট দুজনে নিঃশ্বাসের শব্দ শুনলাম। বাইরে বৃষ্টি, ভেতরে শুধু ওই শব্দ।
তারপর আরেকটা বজ্রপাত। পায়েল চোখ বুজে আমার দিকে সরে এল, সোজা আমার বুকের গায়ে মাথা রেখে।
আর আমার হাতটা এমনিতেই ওর কাঁধের ওপরে চলে গেল।
স্পর্শটা শুরু হল। ওর ভেজা চুল আমার গালে, ওর গলার হারটা আমার বুকের ওপর, আর ওর শ্বাস ধীরে ধীরে। আমি হাতটা নামিয়ে আনলাম ওর পিঠের ওপর, কম্বলের ওপরে। ও নড়ল না।
আমি তখন সত্যিই বুঝতে পারছিলাম না আমার বুকের ভেতরে কী হচ্ছে। একটা হালকা কাঁপুনি, গলার কাছে একটা চাপ, আর নিচের দিকে একটা সমস্যা যেটা নিয়ে আমি সেদিন পর্যন্ত কখনো ভাবিনি।
কারণ মেয়েটা আমার বোন ছিল। অন্তত কাগজে-কলমে।
সেদিন সারা রাত বজ্রপাত থামল না। আর তারপর থেকে বিছানার ফাঁকটাও আর ফাঁক রইল না। প্রথমে "আজ বৃষ্টি", তারপর "আজ ঠান্ডা", তারপর "আজ একা ঘুমাতে ইচ্ছে করছে না" — এইভাবে প্রতিদিন একটা অজুহাত। আর এক মাস পরে অজুহাত বন্ধ হয়ে গেল, কারণ দুজনেই জানতাম আসল কারণটা কী।
সমস্যা ছিল একটাই — সেটা কেউ মুখে বলছিল না।
পাঁচ — খুনসুটি, ছাগল আর পাড়ার খবর
সেই সময়ে আমাদের হাসিটা ছিল ভাগ্য — কারণ বাকি সব জায়গায় আমরা ভীষণ বিভ্রান্ত।
একদিন সকালে পায়েল নাশতা বানাচ্ছিল, আর ওর হাত থেকে তেলের বোতল পড়ে গেল। তেল গড়িয়ে গেল মেঝেতে, আর পায়েল পিছলে পড়ে গেল। আমি দৌড়ে গিয়ে ধরলাম, কিন্তু ধরা দিয়েও শেষ রক্ষা হয়নি — দুজনেই পড়লাম, ওর ওপর আমি।
আমার হাত ছিল ওর কোমরের দু'পাশে, আর ওর মুখ আমার ঠিক সামনে।
কয়েক সেকেন্ড দুজনে তাকিয়ে রইলাম।
তারপর পায়েল বলল, "দাদা, তুমি এখন কী করবে?"
"কী করব মানে?"
"সাহস করে চুমু খাবে, নাকি উঠে দাঁড়িয়ে বলবে আজ পায়েল খুব অসাবধান?"
আমি হেসে উঠলাম আর উঠে বসলাম। পায়েল মেঝেতে শুয়ে শুয়ে বলল, "উত্তর পেলাম না।"
"উত্তর দিতেই তো বলছি।"
"আচ্ছা, তারপর বলো।"
তারপর আরেকদিন সন্ধ্যায় আমরা বিছানায় বসে পড়ছিলাম। ও হঠাৎ আমার কলমটা নিয়ে দূরে ছুঁড়ে ফেলল।
"কেন?"
"ধরো দেখি।"
আমি উঠলাম, ফিরে এসে বসলাম। আবার ছুঁড়ল। আবার উঠলাম। তৃতীয়বারে আমি আর ওঠার আগেই ও আমার হাত চেপে ধরল, "বসো।" তারপর হেসে বলল, "দাদা, তুমি এত সহজে ধরা দাও কেন?"
"তুই ডাকলেই আসি।"
"হুম," বলল, "তাই ভাবছি।"
তারপর শুরু হল খুনসুটি। আমি ওর পেটে আঙুল ছোঁয়ালাম, ও চিৎকার করে হাসতে হাসতে ছটফট করতে লাগল। "দাদা, থামো, থামো, দাদা!"
"থামব না।"
ও হাসতে হাসতে একসময় নিজেই উঠে আমার কোলের ওপর বসল, শুধু হাতটা আটকানোর জন্য। তারপর আটকে দিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলল, "এখন থামো।"
আর আমি তখন কোলের ওপর বসে থাকা এই মেয়েটার দিকে তাকিয়ে ছিলাম, আর বুঝতে পারছিলাম — ওর ওজন, ওর উষ্ণতা, ওর শ্বাস, সবই এখন আমার কাছে। খুব কাছে।
"দাদা?"
"হুঁ।"
"কোল ছেড়ে দিলে না কেন?"
"তুই বসেছিস, তুই উঠবি।"
"আমি উঠব না।"
"তাহলে?"
"তাহলে তুমি এইভাবে থাকো।"
এদিকে বাইরের দুনিয়া ছিল আরো মজার। পাড়ার হিন্দু-মুসলিম মিলিয়ে সব খুড়ি-মাসি গুজব ছড়াত। কেউ বলত, "দাদা-বোন একা থাকে, দাদা বিয়ে দিবে না কেন?" কেউ বলত, "বোনটা বড় সুন্দর হয়েছে, শহরের ছেলেরা নজর দিবে।" কেউ বলত, "আরে, ওরা তো খুড়তুতো, বিয়ে দিলেও দোষ নেই!"
শুনে আমার ভেতরে জিনিসটা কাঁপত।
আরেকদিন মালিকপক্ষের গরু আর পাশের বাড়ির ছাগল নিয়ে এক বিশাল কাণ্ড হলো। ছাগলটা আমাদের রান্নাঘরে ঢুকে গোটা ডালের হাঁড়ি খালি করে ফেলল, আর পায়েল বাড়িওয়ালার মায়ের কাছে নালিশ করতে গেল। বাড়িওয়ালার মা বললেন, "মা, তুমি তো এখনো বৌ হয়ে যাও নি, কাজেই রান্নাটা বেশি ভালো হবে না।" পায়েল ফিরে এসে সোজা আমাকে বলল, "দাদা, শুনলে? বলছে আমি বৌ হয়ে যাইনি।"
"তুই তো অবিবাহিত, ঠিকই বলেছে।"
"তুমি বুঝলে না," বলল, চোখ ছোট করে। "মানে, বৌ হওয়ার যোগ্য না হয়েও যদি এত রান্না বানাই, বৌ হলে আরো ভালো বানাব।"
"তাহলে বিয়ে দে তোকে?"
"দিও," বলল, তারপর হঠাৎ একটু থেমে গেল। "কিন্তু কাউকে?" — প্রশ্নটা আমার দিকেই ছুঁড়ে দিল।
আমি উত্তর দিলাম না। উঠে হাঁড়ি ধুতে গেলাম।
ছয় — প্রথম চুমু
সেটা পৌষ মাস। ঘরে কম্বল বেড়ে গেছে, তবু ঠান্ডা কমেনি। রাতে দুজনে একই কম্বলে শুয়ে থাকতাম, মাঝখানে ছোট্ট একটা ফাঁক।
সেই রাতে কে যেন ফাঁকটা কমিয়ে দিল। জানি না কে আগে নড়ল — হয়তো দুজনেই।
আমি শুয়ে ছিলাম পিঠ ফিরিয়ে। পায়েল পিছন থেকে সরে এসে আমার পিঠে হাত রাখল। তারপর বলল, "দাদা।"
"হুঁ।"
"ঘুমিয়ে পড়েছ?"
"না।"
"তাহলে ঘুরে দাঁড়াও।"
আমি ঘুরলাম। ঘরটা অন্ধকার, জানালা দিয়ে শুধু ম্লান চাঁদের আলো। ওর মুখটা আমার ঠিক সামনে, নিঃশ্বাস আমার ঠোঁটে লেগে যাচ্ছে।
"কী?" বললাম।
"তুমি একবার বলেছিলে, তুই আমার বোন।"
"হ্যাঁ।"
"তাহলে একবার ভাবো — বোন হলে কী হয়েছে?"
আমি হাসলাম। "এটা আবার প্রশ্ন?"
"প্রশ্ন," বলল, "উত্তর দাও।"
"বোন মানে..."
"থামো।"
ও আমার ঠোঁটে আঙুল রাখল। তারপর ধীরে ধীরে আঙুল সরিয়ে নিয়ে ঠোঁটটা নিচু করে আমার ঠোঁটে রাখল।
প্রথম চুমু। খুব ছোট, খুব নরম, একেবারে একটা চিঠির সিলের মতো।
তারপর ও সরে গেল, আর অন্ধকারেও বুঝলাম ও লজ্জা পাচ্ছে।
আমি কিছু বললাম না। একটু সরে গেলাম, তারপর হাত বাড়িয়ে ওর গালে হাত রাখলাম, মুখটা আবার কাছে টেনে নিলাম, আর এবার চুমুটা লম্বা হল। এবার ঠোঁট দুটো খুলে গেল, আর ওর শ্বাস আমার মুখের ভেতরে মিশে গেল।
হাতে হাত রাখলাম, তারপর হাতটা ওর কোমরে গেল। ও আঙুল দিয়ে আমার বুকের জামা চেপে ধরল।
চুমুটাটা ভাঙল অনেকক্ষণ পর। দুজনেই তখন হাঁপাচ্ছি।
পায়েল বলল, "দাদা।"
"হুঁ।"
"তুমি এখনো বলো না কেন, 'পায়েল, তুই আমার বোন'?"
"কারণ এখন বলা মুশকিল হয়ে গেছে," বললাম।
"কেন?"
"বোনদের এভাবে চুমু খাওয়া যায় না।"
ও হেসে উঠল, চোখের কোণে তখন জল। তারপর আমার বুকে মাথা রেখে বলল, "দাদা, তুমি খুব দেরি করো।"
"কত দেরি?"
"অনেক।"
সেই রাতে আমরা চুমু খেতে খেতে ঘুমিয়ে পড়লাম, আর সকালে উঠে আবিষ্কার করলাম — আমি ওর চুলের ওপর মুখ রেখে ঘুমিয়ে ছিলাম, ও আমার বুকে হাত দিয়ে।
সকালের আলোয় দুজনে লজ্জা পেয়ে আলাদা হয়ে গেলাম, তারপর দুজনে হাসলাম।
সাত — প্রথম স্পর্শ
চুমু আসার পর ভয়টা বাড়ল। কারণ চুমু তো চুমু, কিন্তু হাত?
এক সপ্তাহ ধরে আমরা প্রতিদিন রাতে চুমু খেয়েছি, আর প্রতিদিনই আমার হাত ওর কোমরের ওপরে গেছে, তারপর থেমে গেছে। কারণ দুজনেই জানতাম, একবার কোমর পার হলে আর ফেরা নেই।
সেই রাতটা এল এক শনিবারে।
রাতে দুজনে শুয়ে ছিলাম। আজ আর অজুহাত লাগল না। পায়েল আমার বুকের ওপর হাত রেখে বলল, "দাদা, একটা কথা বলো।"
"বল।"
"তুমি ভয় পাচ্ছ?"
"একটু।"
"কেন?"
"জানি না। হয়তো নষ্ট হয়ে যাবে বলে।"
ও হেসে উঠল। "কী নষ্ট হবে?"
"সম্পর্ক।"
"সম্পর্ক নষ্ট হয় না," বলল, "সম্পর্ক শুধু বদলায়।"
তারপর ও আমার হাতটা তুলে নিজের গায়ে রাখল। ঠিক বুকের নিচে, পাঁজরের ওপর, শাড়ির ব্লাউজের ওপরে।
আমি হাতটা নাড়লাম। নরম, উষ্ণ, আর হাতের নিচে একটা ছোট্ট কাঁপুনি — ওর হৃদয়। আমি হাতটা একটু ওপরে সরালাম, আর স্পর্শ করলাম ওর দুধ।
ও চোখ বুজে ফেলল।
আমি আঙুল দিয়ে ওর ব্লাউজের ওপর দিয়ে ধীরে ধীরে বৃত্ত আঁকলাম। ও নিঃশ্বাস ছাড়ল একটু শব্দ করে। তারপর আমার সাহস বেড়ে গেল, হাতটা ব্লাউজের নিচে ঢুকিয়ে দিলাম — খালি ত্বক, নরম, গরম। আঙুলের নিচে ওর দুধটা সরে গেল, তারপর আবার ফিরে এল।
"দাদা," ও ফিসফিস করে বলল, "হাতটা থামাবে না।"
"থামাব না।"
আমি ব্লাউজটা খুলে দিলাম। হুকটা এত ছোট ছিল, আমার হাত কাঁপছিল, তিনবার লাগিয়ে খুললাম। পায়েল হাসল, "তুমি এত কাঁপছ কেন?"
"তুইও কাঁপছিস।"
"সেটা আলাদা।"
ব্লাউজ খুলে গেল। চাঁদের আলোয় ওর বুকটা দেখা গেল — ছোট, গোল, ডিমের মতো, আর দুটো নিপ্পল আমার দিকে। আমি হাত রাখলাম, দু'হাতে দুটো, তারপর মুখ নামিয়ে একটা চুমু খেলাম।
পায়েল সশব্দে শ্বাস ফেলল, তারপর হাত দিয়ে আমার মাথা চেপে ধরল। "দাদা... আরো।"
আমি আরো করলাম। জিভ দিয়ে ছুঁলাম, চুষলাম, আর ও আমার চুলে আঙুল চালাতে লাগল। একসময় ওর নিঃশ্বাস ভারী হয়ে এল, শরীর কাঁপতে লাগল।
তারপর আমার হাত নামল।
নাভি, তারপর নিচে। শাড়ির নিচে হাত ঢোকালাম, কিন্তু তোতলাতে লাগলাম — শাড়িটা কীভাবে খুলব বুঝতে পারছিলাম না। পায়েল হেসে উঠে বলল, "তুমি এত পড়াশোনা করেও এটা জানো না?"
"সিলেবাসে ছিল না।"
"তাহলে আজ প্র্যাকটিক্যাল নাও।"
ও শাড়িটা নিজেই খুলে ফেলল। তারপর শুধু ব্লাউজের নিচের অংশ আর পেটিকোট পরে শুয়ে রইল।
আমি আঙুল রাখলাম ওর নাভিতে, তারপর নিচে। পেটিকোটের ওপরে হাত রাখলাম, একটু চাপ দিলাম। পায়েল চোখ বুজে শ্বাস নিল। আমি হাতটা পেটিকোটের ভেতরে ঢুকালাম।
আর থেমে গেলাম।
কারণ জায়গাটা ভেজা ছিল। পুরো ভেজা।
"দাদা," পায়েল ফিসফিস করে বলল, "লজ্জা পেয়ো না। এটা হয়।"
"কতক্ষণ ধরে হয়?"
"তোমার সাথে শোয়া শুরু করার পর থেকে।"
আমি হাতটা সরালাম। আঙুলের ডগায় পিচ্ছিল ভাব, আর একটা গন্ধ — মিষ্টি, হালকা। আমি আঙুল চেটে দেখলাম। পায়েল হেসে বলল, "দাদা, তুমি নিষ্ঠুর।"
"কেন?"
"এভাবে দেখলে মেয়েদের খুব লজ্জা লাগে।"
"তুই তো পাড়ার সবচেয়ে নির্লজ্জ মেয়ে।"
"সেটা তোমার সামনে," বলল। "বাকিদের সামনে আমি সোনার চেয়েও ভদ্র।"
তারপর আমি আঙুল দিয়ে ওর ভোদাটা খুঁজলাম। ভেতরে আঙুল ঢুকল — গরম, চাপা, আর চারপাশে নরম। পায়েল হাত দিয়ে আমার কাঁধ চেপে ধরল, পা দুটো একটু ফাঁক করল।
"ব্যথা লাগছে?"
"না," বলল। "আঙুল বাড়াও।"
আমি বাড়ালাম। ভেতরে ঢুকে গেল দুই আঙুল। ও শ্বাস নিল একটু লম্বা করে। আমি ধীরে ধীরে ভেতরে-বাইরে চালাতে লাগলাম, আর ওর শরীর আমার হাতের সাথে তালে তালে নড়তে লাগল।
তারপর ওর একটা জায়গা — সামনের দিকে, একটু উপরে — যেখানে ছুঁলেই ও কেঁপে উঠল। আমি সেটা খুঁজে পেলাম, আর পেয়ে আর ছাড়লাম না।
"দাদা... দাদা..."
"হুঁ।"
"ওখানে... ওখানে থাকো..."
আমি ওখানেই থাকলাম। আঙুল দুটো ভেতরে আর বুড়ো আঙুলটা ওপরে। ধীরে, তারপর একটু জোরে। পায়েলের নিঃশ্বাস বাড়তে লাগল, হাত আমার পিঠে নখ বসাতে লাগল, আর একসময় ও পুরো শরীর টান করে ধরল, তারপর একটা চাপা চিৎকার দিয়ে ছেড়ে দিল।
ওর শরীর ঝিমিয়ে পড়ল। কিছুক্ষণ দুজনেই চুপ। আমি হাত সরালাম, আঙুল থেকে জিনিসগুলো পেটিকোটে মুছে নিলাম।
পায়েল চোখ খুলে বলল, "তুমি জানো?"
"কী?"
"তুমি প্রথমবারেই আমার সবচেয়ে ভালো জায়গাটা বের করে ফেলেছ।"
"কপাল।"
"কপাল না," বলল, হেসে। "তুমি ভাগ্যবান, আর আমি আরো।"
তারপর সে আমার দিকে ঘুরে বসল, আমার প্যান্টের দিকে তাকিয়ে বলল, "এখন তোমার পালা।"
আট — প্রথম চুদাচুদি
সেই রাতে আর সব হলো না। কারণ আমার তখন অবস্থা খারাপ, কিন্তু দুজনের কেউই তাড়াহুড়ো করতে চাইল না।
দু'দিন পর, রবিবার দুপুরে, ঘর তালাবন্ধ করে আমরা দুজনে সিদ্ধান্ত নিলাম — আজ।
সেদিন বৃষ্টি হচ্ছিল হালকা। টিনের চালে শব্দ, আর জানালায় ধূসর আলো। ঘরটা অন্ধকার-অন্ধকার, ঠিক যেন দুনিয়া থেকে বের করে দেওয়া একটা ছোট্ট ঘর।
পায়েল শাড়ি খুলে ফেলল, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "তুমিও খোলো।"
আমি খুললাম। ও আমার দিকে তাকিয়ে রইল, তারপর হেসে বলল, "দাদা, তোমার এত?"
"কী এত?"
"ওটা।"
আমি লজ্জা পেলাম। "কত হবে?"
"জানি না," বলল। "আমার তো প্রথম।"
তারপর ও এসে আমার পাশে বসল, হাত দিয়ে ছুঁল। আমি শ্বাস চেপে ধরলাম। ওর হাত ছিল ছোট, ঠান্ডা, আর ছোঁয়াটা আমার সমস্ত স্নায়ু জাগিয়ে দিল।
"নরম," বলল।
"এত নরম না।"
"তোমার নিজের হাতে নরম লাগবে না।" — তারপর সে হাতটা নাড়তে লাগল, ধীরে ধীরে।
আমি বিছানায় শুয়ে পড়লাম। ও পাশে শুয়ে, হাত চালাতে লাগল, আর আমার মুখ দেখতে লাগল, যেন কিছু পড়ছে।
"দাদা, চোখ বুজলে না কেন?"
"তোর মুখ দেখতে ভালো লাগছে।"
"বুজো।" — হাত দিয়ে চোখ ঢেকে দিল।
তারপর হাত সরিয়ে নিয়ে মুখ নামিয়ে আমার ঠোঁটে চুমু খেল। চুমু খেতে খেতে হাত চলতে লাগল, আর আমি বরফের মতো গলে যেতে লাগলাম।
কিছুক্ষণ পরে ও বলল, "এখন?"
"এখন।"
ও পিঠের ওপর শুয়ে পড়ল, পা দুটো একটু ফাঁক করল, হাত বাড়িয়ে ডাকল, "আসো।"
আমি উঠে ওর ওপর এলাম, কিন্তু তাড়াহুড়ো না করে দুই হাতে ভর দিয়ে নিজেকে ধরে রাখলাম। ওর মুখ আমার ঠিক নিচে, চোখ দুটো বড়, আর ঠোঁটে হাসি।
"দাদা, ভয় পাচ্ছ?"
"হ্যাঁ।"
"আমিও।"
তারপর আমি হাত দিয়ে নিজেকে ধরে ঠিক জায়গায় রাখলাম। একটু ঠেললাম।
পায়েল চোখ বুজে ফেলল।
প্রথম চাপটা গেল, কিন্তু ঢুকল না। আবার ঠেললাম। এবার মাথাটা ভেতরে গেল, আর পায়েলের মুখটা একটু বেঁকে গেল।
"ব্যথা?"
"একটু," বলল, "থামো না।"
আমি ধীরে ধীরে ঠেলতে লাগলাম। কিছুক্ষণ পর একটা বাধা — তারপর পায়েল হাত দিয়ে আমার কোমর চেপে ধরল, আর আমি ঠেলে দিলাম।
ভেতরে ঢুকে গেলাম পুরোপুরি।
পায়েল একটা ছোট্ট শব্দ করল, চোখে জল। আমি থেমে গেলাম। "কত ব্যথা?"
"জ্বালা করছে," বলল, "কিন্তু তোমাকে ভেতরে পেয়ে ভালোও লাগছে। অদ্ভুত, তাই না?"
"হুম।"
"তুমি নড়বে না। একটু ভেতরে থাকো।"
আমি ভেতরে থাকলাম। এক মিনিট, দুই মিনিট। তারপর ও একটু নড়ল, তারপর বলল, "এখন ধীরে।"
আমি ধীরে চালাতে লাগলাম। খুব ধীরে। আর প্রতিবার ঢুকতে-বেরোতে ওর মুখের ভাব বদলাতে লাগল — প্রথমে ব্যথা, তারপর চাপ, তারপর কিছু একটা যা ব্যথার চেয়ে ভালো।
"দাদা..."
"হুঁ।"
"এখন আর ব্যথা নেই।"
"সত্যি?"
"সত্যি। আরো।"
আমি গতি বাড়ালাম। বৃষ্টির শব্দ, আর আমাদের দুজনের শ্বাসের শব্দ, আর বিছানার কাঠের ছোট্ট ক্যাঁচ-ক্যাঁচ। পায়েল আমার গলায় হাত জড়িয়ে ধরল, পা দুটো আমার কোমরের ওপরে তুলে দিল, আর একসময় নিজেই কোমর তুলে তাল দিতে লাগল।
আমি ওর মুখের দিকে তাকালাম। চোখ বুজে, ঠোঁট ফাঁক, গলার হারটা দুলছে, আর চুলগুলো বালিশে ছড়িয়ে।
"পায়েল।"
"হুঁ?"
"তুই আমার বোন।"
ও চোখ খুলে হাসল। "তুই আবার শুরু করলি?"
"শেষবার।"
"থাক," বলল, "আরো জোরে।"
আমি আরো জোরে চালালাম। ওর নিঃশব্দ ফিসফিস শুরু হল, তারপর ছোট ছোট শব্দ, তারপর একসময় বালিশটা মুখে চেপে ধরল যাতে পাশের ঘর শুনতে না পায়।
আর শেষে ও কেঁপে উঠল, ভেতরে চেপে ধরল, আর আমার কোমরে পা দুটো শক্ত করে জড়িয়ে ধরল।
আমি আর বেশি সময় টিকতে পারলাম না। টেনে বের করে ফেললাম।
তারপর দুজনে হাঁপাতে হাঁপাতে পাশাপাশি শুয়ে পড়লাম।
অনেকক্ষণ কেউ কিছু বলল না। তারপর পায়েল আমার দিকে গড়িয়ে এসে বুকের ওপর মাথা রাখল।
"দাদা।"
"হুঁ।"
"আমরা পাপ করলাম?"
"হিন্দুশাস্ত্রে খুড়তুতো বিয়ে চলে," বললাম। "তাই পাপ না।"
"তুমি সব জানো।"
"পড়েছি।"
"তাহলে," বলল, মুখ তুলে, "এবার বিয়ের ব্যবস্থা করো।"
নয় — অভ্যাস
সেদিনের পর থেকে আমাদের ঘরে একটা নতুন রুটিন ঢুকে গেল। সকালে একবার, রাতে একবার, আর কখনো কখনো দুপুরে — যখন দুজনের ছুটি মিলে যায়।
প্রথম দিকে আমরা খুব লুকিয়ে করতাম। কারণ ঘরের দেওয়াল পাতলা, আর পাশের ঘরে বাড়িওয়ালার ছেলে থাকত। তাই পায়েল বালিশ চেপে ধরত, আর আমি কামড় দিতাম নিজের হাতের ওপর।
একদিন তো সত্যিই ধরা পড়ে গেলাম।
বাড়িওয়ালার মা উঠে এসে দরজায় টোকা দিলেন, "মা, খোলো তো।"
আমরা তখন প্রায় শেষের দিকে। পায়েল কোনোমতে শাড়ি টেনে পরে দরজা খুলল।
বাড়িওয়ালার মা ভেতরে ঢুকে দেখলেন — আমার চুল এলোমেলো, পায়েলের শাড়ি উল্টো, বিছানা তোলপাড়, আর ঘরের বাতাসে একটা ভিন্ন গন্ধ।
তিনি কিছুক্ষণ তাকিয়ে রইলেন, তারপর বললেন, "তোমরা দুজনে মাঝরাতে কী করো?"
পায়েল সোজা উত্তর দিল, "পড়াশোনা।"
"পড়াশোনা? এত হাঁপাচ্ছ?"
"হ্যাঁ," বলল পায়েল, "গণিত কঠিন।"
বাড়িওয়ালার মা মাথা নেড়ে চলে গেলেন। আর আমরা দরজা বন্ধ করে দিয়ে হাসতে হাসতে বিছানায় পড়ে গেলাম।
এরপর জিনিসগুলো আরো বাড়ল।
পায়েল একদিন আমার শার্ট পরে ঘুরে বেড়াচ্ছিল, আর হঠাৎ পিছন থেকে হাত বাড়িয়ে আমার কোমরে হাত দিয়ে বলল, "দাদা, আজ ক্লাস নেই।"
"তাহলে?"
"তাহলে আজ সকালেই।"
আরেকদিন রান্নাঘরে — আমি ডাল নামাচ্ছিলাম, ও পিছন থেকে জড়িয়ে ধরল, তারপর কানে কামড় দিল। "দাদা, রান্না নষ্ট হবে।"
"তুই দায়ী।"
"আমি দায়ী," বলল, তারপর শাড়ি তুলে দিল।
আরেকদিন গোসলখানায়। দুজনে একসাথে গোসল করতে গেলাম, ট্যাপের ফোঁটায় ফোঁটায় ভিজতে লাগলাম, তারপর দাঁড়িয়েই শুরু হয়ে গেল। আমার হাত পিছন দিক থেকে ওর বুকের ওপর, আর ও দেয়ালে হাত রেখে সামনে ঝুঁকে দাঁড়াল। পলিথিনের দেওয়ালে ওর হাতের ছাপ পড়ে রইল, আর বাইরে থেকে শোনা যাচ্ছিল ছপছপ শব্দ।
পায়েল একদিন নিজেই শুরু করল নতুন কিছু।
সন্ধ্যায় বসে ছিলাম পড়তে, ও এসে আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসল, তারপর প্যান্টের বোতাম খুলতে লাগল।
"কী করছিস?"
"যা দেখছ," বলল। "তুমি পড়ো, আমি কাজ করি।"
তারপর মুখ নামিয়ে নিল। আমি বইয়ের ওপর হাত রেখেই আর পড়তে পারলাম না। ওর মুখ গরম, ভেজা, আর ও একেবারে গোড়া পর্যন্ত নিয়ে যাচ্ছিল, তারপর ধীরে ধীরে ওপরে আসছিল। কখনো দাঁত দিয়ে হালকা ছুঁয়ে যাচ্ছিল, কখনো জিভের ডগা দিয়ে।
আমি চেয়ারে বসে মাথা পিছনে হেলিয়ে দিলাম।
"দাদা, চোখ বুজো না।"
"দেখব?"
"দেখো।"
আমি দেখলাম। আমার সামনে একটা আঠারো বছরের মেয়ে, গলায় সোনার হার, খোলা চুল, আর আমার সামনে। তার চেয়ে সুন্দর দৃশ্য জীবনে দেখিনি।
শেষের দিকে ও একটু থেমে গেল, তারপর হাসল, "দাদা, তোমার তো শেষ।"
"জানি।"
"তাহলে এখন ভেতরে ঢোকাও।"
সেই সন্ধ্যায় চেয়ার থেকে বিছানা, বিছানা থেকে মেঝে, তারপর আবার বিছানা — তিনবার জায়গা বদল করলাম।
আর রাতে শুয়ে ও বলল, "দাদা, একটা কথা।"
"বল।"
"তুমি আমাকে ভালোবাসো?"
আমি কিছুক্ষণ চুপ করে রইলাম। কারণ উত্তরটা আমি জানতাম, কিন্তু বলতে ভয় পাচ্ছিলাম।
"ভালোবাসা মানে কী?" বললাম।
"তুমি অঙ্ক করো না," বলল ও। "সোজা বলো — হ্যাঁ না না।"
"হ্যাঁ।"
ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল। তারপর বলল, "তাহলে তুমি এতদিন ভাবছিলে কেন?"
"কারণ তুই আমার বোন।"
"তুই আবার!"
"শেষবার," বললাম, হেসে।
দশ — ভাইয়ের দ্বিধা
সুখের মাঝেও আমার ভেতরে একটা জিনিস কাঁটার মতো ছিল — আর সেটা হলো আমার "বোন" শব্দটা।
কারণ ভাবতে থাকলাম, পায়েল আমার খুড়তুতো বোন। আমাদের একই পূর্বপুরুষ, একই রক্ত। পাড়ায় কেউ যদি বলে দেয় "তোমরা তো আত্মীয়, বিয়ে হবে কী করে", তাহলে কী হবে?
আরেকটা জিনিস ছিল — পায়েলের বয়স আঠারো। হয়তো ও আজ আমাকে ভালোবাসছে, কিন্তু শহরে গেলে হয়তো কোনো ভালো ছেলে দেখে মন বদলে যাবে। আর আমি চাকরিজীবী, বেতন সাত হাজার, ভাড়া বাড়ি, টিনের চাল।
তাই একদিন আমি সিদ্ধান্ত নিলাম — পায়েলের বিয়ে দেওয়ার জন্য পাত্র খুঁজব।
পায়েলকে বললাম না, কারণ বললে ঝগড়া হবে। আমি চুপচাপ চেষ্টা করতে লাগলাম। আত্মীয়দের বললাম, এক খালাতো দাদা কলকাতার এক ছেলের কথা বললেন — ভালো চাকরি, দুই রুমের ফ্ল্যাট, বয়স ছাব্বিশ। ছবি পাঠাল।
ছবিটা পায়েলকে দেখালাম এক রাতে।
"দেখ, ছেলেটা ভালো," বললাম।
"হুম," বলল, তারপর ছবিটার দিকে তাকিয়ে। "কিন্তু দেখতে তোমার মতো না।"
"আমার মতো হবে কেন?"
"আমার বিয়ে তো তোমার সাথে হচ্ছে," বলল। "তাই তোমার মতো না হলে চলবে কী করে?"
"এই যে," বললাম, "বিয়ের কথা এখনো ঠিক হয়নি।"
"তুমি ঠিক করেছ?"
"আমি ভাবছি।"
পায়েল ছবিটা টেবিলে রাখল, তারপর উঠে দাঁড়িয়ে বলল, "দাদা, তুমি বোকা।"
"কেন?"
"কারণ তুমি ভাবছ ছেলেটা ভালো, তার মানে আমি চলে যাব। অথচ তুমি একবারও ভাবলে না, তুমি যদি বলতে 'পায়েল তুই থাক', আমি দৌড়ে আসতাম।"
আমি কিছু বলতে পারলাম না।
এরপর আসল পরীক্ষাটা এল। কলকাতার ছেলেটা নিজে গ্রামে এসে আমাদের দেখতে চাইল। আত্মীয়ের বাড়িতে বসে পায়েলের সাথে কথা হলো, আর ছেলেটা বলল — ভালো লেগেছে, বিয়ে দিতে পারেন।
আমার ভেতরে তখন একটা অদ্ভুত খচখচানি। কেউ এসে বলল, "তোমার বোনের জন্য ভালো পাত্র মিলেছে।"
আর আমি তখনো "তোমার বোন" শব্দটার মধ্যে আটকে ছিলাম।
সেদিন রাতে ঘরে ফিরে পায়েল আমাকে বলল, "দাদা, ছেলেটা বিয়ে করতে রাজি।"
"হুম, শুনলাম।"
"তোমার কী মত?"
আমি বিছানায় বসে জুতা খুলছিলাম। হাত থেমে গেল।
"পায়েল," বললাম, "তুই কী চাস?"
"আমি আগে জিজ্ঞেস করলাম," বলল। "তুমি বলো।"
"আমার তো মনে হয় ছেলেটা ভালো।"
"হুম," বলল, "ভালো। কিন্তু?"
"কিন্তু..."
"কিন্তু কী?"
আমি মাথা তুলে তাকালাম। ও দরজার পাশে দাঁড়িয়ে ছিল, হাতে একটা কাপড়, চুল আঁচড়াচ্ছিল। গলার হারটা এখনো ওর বুকের ওপর।
তারপর ও কাপড়টা ফেলে দিয়ে আমার কাছে এসে হাঁটু গেড়ে বসল।
"দাদা," বলল, "একটা কথা বলো। তুমি যদি বলো 'থাক', আমি থাকব। তুমি যদি বলো 'যা', আমি যাব। কিন্তু তুমি এই দুইয়ের মাঝখানে ঝুলে থেকো না।"
আমি ওর মুখের দিকে তাকিয়ে রইলাম।
তারপর বললাম, "থাক।"
ও কিছুক্ষণ চুপ করে রইল, তারপর ধীরে ধীরে হাসল। তারপর উঠে আমার কোলে বসল, দু'হাতে আমার মুখ চেপে ধরে বলল, "তাহলে আজ থেকেই বিয়ের কথা বলো।"
"কিন্তু আত্মীয়রা?"
"আত্মীয়রা কী বলবে — খুড়তুতো বিয়ে হয় না? হয়। বরিশালে, ফরিদপুরে, খুলনায়, সব জায়গায় হয়। তুমি নিজেই বলেছিলে হিন্দুশাস্ত্রে চলে।"
"তুই মনে রেখেছিস?"
"তুমি যত পড়ো," বলল, "আমি তত মনে রাখি।"
এগারো — বিয়ে
বিয়ে ঠিক হল সেই শীতে, পৌষের এক শুভ দিনে।
আত্মীয়রা প্রথমে একটু গুনগুন করল — কেউ বলল "খুড়তুতো তো, দোষ নেই", কেউ বলল "তবু রক্তের সম্পর্ক", কেউ বলল "ছেলেটা ভাগ্যবান, মেয়েটা সোনা"। শেষে সবাই রাজি হয়ে গেল, কারণ পায়েল ছাড়া অন্য কারো আপত্তিটাই তীব্র ছিল না।
আর সবচেয়ে বড় সমর্থনটা এল বাড়িওয়ালার মায়ের কাছ থেকে। তিনি শুনে বললেন, "আমি তো আগেই বলেছিলাম, মেয়েটা বৌ হওয়ার যোগ্য। দেখলেন?"
বিয়েটা হলো গ্রামের বাড়িতে, ছোট করে। মণ্ডপে আত্মীয়রা, দুই পাড়ার মানুষ, আর খুড়োর বাড়ির উঠোনে বাঁশের চাঁদোয়া।
পায়েল গায়ে হলুদ শাড়ি পরল, কপালে সিঁদুর, হাতে চুড়ি। আর গলায় সেই সরু সোনার হার — মায়ের দেওয়া।
মণ্ডপে বসে আমি ওর দিকে তাকিয়ে ছিলাম। সাত পাকের সময় ও আমার দিকে তাকিয়ে হেসে ফিসফিস করে বলল, "দাদা, তুমি এখনো কাঁপছ।"
"তুইও কাঁপছিস।"
"সেটা আলাদা," বলল, সেই পুরনো উত্তরে।
তারপর সিঁদুর পড়ল, আর আমি ওর কপালে হাত রাখলাম।
তারপর রাতে, বিয়ের রাতটা ছিল গ্রামের বাড়িতেই — খুড়োর বাড়ার সেই ঘরে, যেখানে ও ছোটবেলায় ঘুমাত। ঘরটা পরিষ্কার করে, বিছানায় নতুন চাদর, আর জানালায় জোছনা।
দরজা বন্ধ করলাম।
পায়েল বিছানায় বসল, তারপর আমার দিকে তাকিয়ে বলল, "দাদা, আজ একটা কথা বলব?"
"বল।"
"এবার তুমি আর বলতে পারবে না 'তুই আমার বোন'।"
"কেন?"
"কারণ এখন আমি তোমার বউ।"
আমি হাসলাম। "বউ-ও তো বোন ছিল।"
"তুমি আবার শুরু করলে!"
তারপর আমি ওর কাছে গেলাম, হাঁটু গেড়ে বসলাম, আর ওর গলার হারটা আঙুলে ধরে বললাম, "এটা মায়ের। মা বলেছিল, নষ্ট করিস না।"
"নষ্ট করিনি," বলল, চোখে জল।
"আজ থেকে এটা আমার দায়িত্ব," বললাম। "তুই আর এটা খুলবি না।"
ও আমার হাত চেপে ধরল। তারপর মুখ নামিয়ে আমার ঠোঁটে চুমু খেল, সেই প্রথম রাতের মতোই — নরম, ছোট, একটা চিঠির সিলের মতো। তারপর বলল, "দাদা, আজ রাতে তাড়াহুড়ো কোরো না।"
"তাড়াহুড়ো করব না।"
"আর আলো নিভিও না।"
"নিভাব না।"
সেই রাতে আমরা প্রায় সারা রাত জেগে ছিলাম। ধীরে, একেবারে ধীরে। পায়েল শাড়ি খুলল নিজের হাতে, তারপর আমার কাপড় খুলল নিজের হাতে। দুজনে টুকরো টুকরো করে দেখা হল, ছোঁয়া হল, তারপর একসাথে হলাম।
ওর শরীর আগের চেয়ে বদলে গিয়েছিল একটু — আরো উষ্ণ, আরো নিশ্চিন্ত, আরো বেশি ওর নিজের। আর প্রথমবার আমরা চিৎকার করতে পারলাম, কারণ আর লুকানোর দরকার ছিল না।
আর সেই রাতে, আমি ঢুকে পড়ার পর, ও হাত দিয়ে আমার মুখ ধরে বলল, "দাদা।"
"হুঁ।"
"তুমি ছিলে আমার সবচেয়ে বড় ভাগ্য।"
"আর তুই," বললাম, "ছিলি আমার সবচেয়ে বড় অজুহাত।"
"অজুহাত?"
"তোর বিয়ে দেব বলে খুঁজতে গিয়ে," বললাম, "নিজেকেই খুঁজে পেলাম।"
ও হাসল, তারপর আমাকে নিজের দিকে টেনে নিল।
বারো — যা রইল
আজ সাত বছর।
আমাদের আর ওই টিনের ঘর নেই। এখন দুটো রুমের একটা ছোট ফ্ল্যাট, শৌচালয় ভেতরে, আর একটা ছোট্ট বারান্দা যেখানে সন্ধ্যায় দুজনে বসি।
আমার চাকরি বদলেছে — একটা ছাপাখানার দোকানে ম্যানেজার। পায়েল বিএ পাশ করেছে, এখন একটা প্রাইভেট স্কুলে পড়ায়। বাচ্চাদের পড়াতে পড়াতে ওর গলা এমন হয়েছে যে রাতে আমার সাথে ঝগড়া করলে মনে হয় স্কুলের অ্যাসেম্বলি শুরু হয়ে গেছে।
আর আছে ছোট্ট পুতুল — আমাদের মেয়ে, তিন বছরের, নাম রুপা। গলায় ওর দাদির হার দেওয়া হয়েছে, ঠিক যেমন মা পায়েলকে দিয়েছিলেন। পায়েল সেটা নিয়ে গর্ব করে বলে, "দেখো দাদা, হারটা টিকে গেছে।"
পাড়ার কেউ কেউ আজও বলে, "তোমরা তো খুড়তুতো ছিলে!"
আর পায়েল আজও একই উত্তর দেয়: "ছিলাম। তারপর হয়ে গেলাম।"
রাতে এখনো মেয়েটা ঘুমিয়ে পড়লে দুজনে বসি। পায়েল মাঝে মাঝে হঠাৎ আমার দিকে তাকায়, তারপর হাসে।
"কী?"
"কিছু না," বলে। "মনে পড়ল।"
"কী মনে পড়ল?"
"সেই বৃষ্টির রাতটা। যেদিন তুমি ভাবছিলে আমি ঘুমিয়ে পড়েছি, অথচ আমি সারা রাত জেগে তোমার শ্বাস গুনছিলাম।"
"মিথ্যা," বলি। "তুই ঘুমিয়ে পড়েছিলি।"
"দাদা," বলে, চোখ ছোট করে, "তুমি এখনো বুঝো না — মেয়েরা কত কিছু করে, আর ছেলেরা টের পায় না।"
সেটা সত্যি। সেটা আমি বহুবার টের পেয়েছি — মাঝরাতে বিছানায়, ভোরের আলোয়, রান্নাঘরে, আর ওর হাসিতে।
আর এখনো, যখন পায়েল শাড়ি পরে চুল বাঁধে আর গলায় সেই হারটা ঝুলে থাকে, আর যখন সে আমার দিকে তাকিয়ে সেই নির্লজ্জ হাসিটা হাসে — তখনো আমার ভেতরে সেই একই জিনিস কেঁপে ওঠে, যেটা কেঁপেছিল আঠারো বছরের এক মেয়ের ভেজা চুলের নিচে, গোসলখানার চাদরের ফাঁকে।
আমার বাবা-মা ছিলেন না। ওর বাবা-মা ছিলেন না। একটা রাস্তা সব নিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু সেই রাস্তাটাই আমাদের এক করে দিল।
আর গলার সেই হারটা এখনো আছে — না, ভুল বললাম, এখনো দুলছে। কারণ পায়েলের এখনো হার মানার অভ্যাস নেই। সেটা আমার পাশে শোয়ার সময়ও নেই, আর আমার সাথে ঝগড়া করার সময়ও নেই।
ভালোবাসাটা আমাদের শুরু হয়েছিল "দাদা" আর "বোন" দিয়ে। তারপর দুই শব্দের মাঝখানে একটা নতুন শব্দ জন্ম নিল — একটা নাম, একটা ডাক, একটা ঘর।
আর ঘরটার নাম এখনো একই — দাদা আর পায়েল।